in

শিশুকে কোনো কিছু চাওয়ার কৌশল শেখাবেন যেভাবে

শিশুরা কোনো কিছু চাওয়ার ব্যাপারে বরাবরই অদক্ষ হয়ে থাকে। বাড়িতে শিশু সন্তান থাকলে কোনো কিছু চাওয়ার ব্যাপারে আপনি নিশ্চয়ই তার কাছ থেকে বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। হঠাৎ দেখবেন আপনার শিশু সন্তান কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে এবং কান্নার সুরে বলছে, তার কোনো সহপাঠী বা খেলার সাথী তার খেলনা কেড়ে নিয়েছে এবং তাকে ফেরত দিচ্ছে না। আবার আপনার কাছে কোনো কিছু চাওয়ার আগেই তা না পাওয়ার দুঃখে কান্নাকাটি করছে অথবা অদ্ভুত আচরণ করছে।

Source: Parenting Ideas

অর্থাৎ আপনার সন্তান সহপাঠী, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের কাছে কোনো কিছু চাওয়ার সঠিক প্রক্রিয়া জানে না। এমনকি ঠিক কোন শব্দচয়নে বন্ধুর কাছে সহযোগিতা চাইতে হয় বা পরিবারের কাছে কোনো কিছুর আবদার করতে হয় সেই শব্দগুলোও তারা জানে না।

পিতা মাতা হিসেবে আপনার সবচেয়ে গুরুদায়িত্ব হলো সন্তানকে স্বনির্ভরশীল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া। যেন কোনো সমস্যার সমাধান করতে তাকে আপনার উপর নির্ভরশীল না হতে হয়। শিশুকে আত্মনির্ভরশীল করতে হলে নিজের মত প্রকাশ, কোনো কিছু চাওয়া এবং বক্তব্য উপস্থাপনের কৌশল রপ্ত করাতে হবে। এই প্রচেষ্টায় আপনাকে সফল করতে আজকের নিবন্ধে কিছু কৌশল আলোচনা করা হলো।

সব বিষয়ে অনুমতি নেওয়া

তিন বছর বয়সী এক শিশু তার ১২ মাস বয়সী ছোট ভাইয়ের খেলনা নিয়ে খেলতে আগ্রহী। এ অবস্থায় তার মা তিন বছর বয়সী সন্তানকে খেলনা নেওয়ার জন্য ১২ মাস বয়সী ছোট ভাইয়ের কাছে অনুমতি চাইতে বলল। যথারীতি তিন বছর বয়সী ছেলেটি অনুমতি চাইল। সে বলল, ‘বেন, আমি কি তোমার ছোট গাড়িটা নিয়ে খেলতে পারি?’ অনুমতি চাইলেও ১২ মাস বয়সী ছোট ভাই কোনো উত্তর দিতে পারল না। কিন্তু তার পক্ষে মা জবাব দিলেন, ‘নিশ্চয়ই, তুমি বেনের খেলনা নিয়ে খেললে সে নিশ্চয়ই খুশি হবে।’

Source: Verywell Family

এই ঘটনায় ১২ মাস বয়সী বেন হয়তো কিছুই বুঝতে পারেনি। কিন্তু তিন বছর বয়সী শিশুটি শিখলো কীভাবে অন্যের জিনিস ব্যবহারের পূর্বে তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এভাবে শিশুটি শিখল অনুমতিদাতা কে সেটা মুখ্য বিষয় নয়, বরং অন্যকারো কিছু ব্যবহার করতে হলে অনুমতি নিতে হবে এটাই মুখ্য বিষয়।

উপযুক্ত শব্দ শেখানো

শিশুরা কোনো কিছু না পেয়ে যখন কান্নাকাটি করে, অশোভন আচরণ করে, গালি দেয় তখন প্রয়োজনে কোমলতার বদলে শাসন করুন এবং তাকে কোনো কিছু চাওয়ার উপযুক্ত শব্দ এবং বাক্য শেখান।

এমন একটা সংস্কৃতি তৈরি করুন যেন সে বুঝে যায় শত কান্নাকাটি এবং গালাগাল করেও কোনো কিছু পাওয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ভদ্রভাবে সঠিক শব্দ প্রয়োগ করে সে না চাইবে। নিয়মিত এভাবে অনুশীলন করলে শিশুরা খুব দ্রুতই কোনো কিছু চাওয়ার কৌশল রপ্ত করতে পারবে।

কোনো কিছু চাওয়ার আদবকেতা

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো শিশুরাও দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন মানুষের সাথে মেশে। তাই বলে নিশ্চয়ই তার ছোট ভাইকে সে যে ভাষায় সম্মোধন করে, প্রতিবেশী কোনো চাচাকে একই ভাষায় সম্বোধন করতে পারে না।

Source: Raising Children Network

ব্যক্তিভেদে যেমন সম্মোধন ভিন্ন হয়, তেমনি ভিন্ন ব্যক্তির কাছে কোনো কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রেও ভিন্ন ভিন্ন আদবকেতা মেনে চলতে হয়। শিশুকে এ ব্যাপারে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিন। পরিবারের বয়জ্যেষ্ঠ সদস্য, প্রতিবেশী এবং অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে কোনো কিছু চাইতে হলে কেমন শব্দ প্রয়োগ করে কথা বলা উচিত তা শিশুকে শেখান।

স্থান এবং সময় জ্ঞান

কার্যকর এবং ফলপ্রসূ যোগাযোগের জন্য সময় জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মব্যস্ত বাবাকে হঠাৎ থামিয়ে অগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে আলাপ করতে চাওয়া যেমন উচিত না, তেমনি মাঝরাতে কোনো বন্ধুকে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ডাকাও উচিত না। সন্তানকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলুন।

সকালে নাস্তার টেবিলে বসে সন্তান কী চাইতে পারে, আর বিকালের নাস্তা করার সময় কী চাইতে পারে তা আপনার সন্তানকে শেখান। একই সাথে কেউ বিরক্ত হলে বা রেগে গেলে তার কাছে যেমন কোনো কিছু চাওয়া উচিত না, তেমনি খুশির মুহূর্তে কীভাবে নিজের প্রত্যাশার কথা জানাতে হয় সেটাও শেখান।

“না”তে দুঃখ না পাওয়া

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সম্পর্কের গুরুত্ব গভীরভাবে বোঝে, কিন্তু শিশুরা মানসিকভাবে এতটা পরিপক্ব হয় না। তাই নিকটাত্মীয় বা ভাইবোনের আবদারও তারা অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করে। ফলে শিশু দুঃখ পায়। যার ফলে শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

Source: Scholastic

তাই শিশুকে অন্যের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন করে তুলুন। আপন ভাইবোন হলেও তার না বলার অধিকার আছে, এই কথাটি শিশুকে বুঝিয়ে দিন। একই সাথে আপন ভাইবোনের সব কথায় না বলা উচিত না, সেটাও তাকে বুঝিয়ে দিন। অর্থাৎ পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়ার চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি করুন। পরস্পর পরস্পরের প্রতি যেন মানবিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ হয় সেদিকে নজর রাখুন।

না মানে না

শিশুদের নিশ্চয়ই চাওয়ার অধিকার আছে, কিন্তু তার মানে এই নয়, কেউ প্রত্যাখ্যান করলে বা না সূচক জবাব দিলেও ক্রমাগত চাইতে হবে। শিশু অন্য কারো কাছে আইসক্রিম বা কোনো খাবার চাইতে পারে, কিন্তু প্রত্যাখ্যান করা মাত্রই তাকে থেমে যেতে হবে।

Source: Mom

আপনার শিশুকে ব্যাক্তিত্ববোধের শিক্ষা দিন এবং অন্য কারো কাছে সহযোগিতা বা কোনো কিছু চাওয়ার ব্যাপারে নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিন। বন্ধু, সহপাঠী, ভাইবোন কারো কাছে ক্রমাগত কোনো জিনিস চাইতে থাকলে শিশুর ব্যক্তিত্বহীনতা ফুটে ওঠে। শিশু ক্রমাগত এভাবে চর্চা করলে ভবিষ্যতে ব্যক্তিত্বহীন মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সুতরাং শিশুর অন্যান্য দক্ষতা রপ্ত করানোর সাথে সাথে কোনো কিছু চাওয়া এবং মানুষের সাথে যোগাযোগ করার সঠিক এবং উপযুক্ত উপায় তাকে শেখান। যেন সে স্বাধীনভাবে নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রেখে অন্য ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং কোনো কিছু চাইতে পারে।

Feature Image: Mom

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

যে কারণে সন্তানের সিদ্ধান্তে হ্যাঁ বলা উচিত

আপনার সন্তানকে কীভাবে লিঙ্গ সমতা সম্পর্কে শেখাবেন