in

নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন শিশুকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন

শিশু বা অল্প বয়সী ছেলে মেয়ের সাথে ক্ষমতা এবং নিয়ম নীতির লড়াইয়ে যুক্ত হওয়া কখনোই ঠিক না। আপনি কিছু বিষয়ের সমন্বয় না করে কখনোই সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবেন না। কেননা শিশুরা নিয়ম নীতির বাধ্যবাধকতা পছন্দ করে না। আপনার কঠিন নিয়ম এবং শাসন সন্তান প্রত্যাখ্যান করবে এবং আপনার সাথে এই নিয়ম আইনের লড়াই চলতেই থাকবে। সব সময় সন্তান চাইবে তার নিজের সৃষ্টি করা নিয়মে চলতে।

Source: Today’s Parent

আপনি হয়তো শিশুর জন্য বিশেষ কিছু করতে চাইছেন, কিন্তু আপনার তৈরি করা খেলা সে খেলতে চাইবে না। আপনার সহযোগিতার মনোভাব এবং প্রচেষ্টা তার কাছে বিরক্তিকর ও যুক্তিহীন শাসন বলে মনে হবে। যেমন প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় সম্বন্ধে সন্তানকে সচেতন করতে গেলে সে আপনার মুখের ওপর ‘না’ বলবে। এমনকি বলবে, সে দেরিতে ঘুমাবে এবং আপনার শাসন তার কাছে বিরক্তিকর।

এক সন্তানের বেশিরভাগ পরিবারে শিশুরা নিজের পছন্দ মতো কাজ করে এবং অন্যের কাছ থেকে কোনো রকম সহযোগিতা বা পরামর্শ আশা করে না। এই শিশুরা নিজের মতো করে ক্ষমতার গুরুত্ব বোঝে এবং কখনোই নিজেকে জাহির করা এবং ক্ষমতা দেখানো থেকে বিচ্যুত হয় না। পরিবারে এমন সন্তান থাকলে আপনার করণীয় কী?

শক্তি সংগ্রাম এড়িয়ে চলুন

পিতামাতা এবং সন্তানের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই খুব সাধারণ ব্যাপার। উভয় পক্ষ থেকেই নিজেকে জাহির করার প্রবল প্রবণতা থাকে। সন্তান বলে আমি যা বলেছি তা-ই ঠিক, আবার পিতামাতা বলে, আমরা যা বলেছি তা-ই ঠিক। উভয় পক্ষই নিজ অবস্থান থেকে এক বিন্দুও নড়ে না, কেউ আপস করতে চায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বৈপরীত্য মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে পরস্পরকে জাহির করার বিতর্কে রূপ নেয়।

Source: Kiwi Families

আসলে পিতামাতা এবং সন্তানের মধ্যে এই যুদ্ধের আসল কারণ পরস্পরকে কন্ট্রোল তথা নিয়ন্ত্রণ করার আকাঙ্ক্ষা। আপনাকে যদি সন্তানের সাথে এমন যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয় তবে নিজেকে জাহির করা নয় বরং তাকে সহযোগিতা করার অন্য পথ অবলম্বন করুন। তার জন্য প্রথমে নিজেকে সংশোধন করুন। আমি যা বলছি তাই করো এবং এখনই করো, সবার আগে সন্তানকে এভাবে বলার মানসিকতা ত্যাগ করুন।

অতীতে এই ধরনের শাসনের কথা শোনা যায়, কিন্তু বর্তমানে নয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের যেসব বিচক্ষণ শিশু আপনা থেকেই কিছু নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে জন্মায় তাদের জন্য তো নয়ই।

Source: Riding Children Network

কেননা এসময়ের শিশুরা শাসনের সুরে কথা বললে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করে। তবে এই শিশুরা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব বোঝে এবং স্বায়ত্তশাসন চায়। তাই আপনাকে তাদের সাথে এমনভাবে যোগাযোগ করতে হবে যেন আপনার নিয়ন্ত্রণ এবং সহযোগিতা তাদের কাছে প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।

আপনার সহযোগিতার ভাষা যদি তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তবে শিশুরা তাতে উৎসাহের সাথে সাড়া দেয়। সুতরাং তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করুন এবং সহযোগিতার মনোভাব প্রকাশ করুন। তবেই শিশু আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকতে পছন্দ করবে।

ভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ

এখানে আরো কিছু বিশেষ কৌশল আলোচনা করা হলো, যার ব্যবহার শিশুর সহযোগিতা করার সম্ভাবনা ও মানসিকতা বাড়িয়ে তুলবে, এমনকি যেসব শিশুরা সব ক্ষেত্রে নেতা হতে চায় তাদেরও।

সব সমস্যা নিয়ে বিতর্কে জড়াবেন না

আপনার শিশুকে নিজের মতো করে সময় কাটাতে দিন। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিন। সব ছোটখাটো বিষয় নাক গলাবেন না। যদি সন্তানের সব বিষয়ের খোঁজ খবর রাখতে চান তবে অচিরেই আপনি তার শোবার ঘরের পরিছন্নতা, পরিধেয় পোষাক এবং খাবার পছন্দ করার মতো বিষয়ে নিজের অজান্তে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা শুরু করবেন, যা ক্রমশ তার কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠবে।

Source: Bold Sky

যেমন আপনার শিশু যদি শীতের পোশাক পরতে না চায়, তাহলে তাকে জোর করে শীতের পোশাক পরাবেন না। শীত অনুভব হলে নিজেই শীতের কাপড় পরার প্রয়োজন বোধ করবে। অনেক অভিভাবক এইসব ছোটখাটো বিষয় হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে সম্পর্কটা তিক্ত বিরক্ত করে তোলে। সুতরাং ভুলেও সন্তানের সাথে কোনো কিছুতেই বাড়াবাড়ি করবেন না।

সন্তানকে উপদেশ না দিয়ে নিজের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানান

অধিকাংশ পিতামাতা বিভিন্ন বিষয়ে সন্তানকে উপদেশ দিয়ে থাকে। কী করা উচিত, কী করা উচিত না এ বিষয়ে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশু কিশোররা এই উপদেশ উপেক্ষা করে।

Source: Brit + Co

সুতরাং এভাবে উপেক্ষিত হওয়ার বদলে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করুন। তাদের কী করা উচিত তা না বলে বরং আপনি কী করতে চলেছেন সেটা বলার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ সন্তানের আচার-আচরণ এবং কর্মপদ্ধতিতে মনোযোগ না দিয়ে নিজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তাকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিন।

যেমন : সন্তানকে বলুন, টেবিলে শান্ত হয়ে না বসলে তোমাকে আইসক্রিম দেওয়া হবে না, শান্তভাবে কথা বললে তবেই আমি তোমার কথা শুনবো, অথবা তুমি শান্ত না হলে আমি গাড়ি চালাব না। সন্তানের সহযোগিতা পেতে বিভিন্ন কাজে এভাবে প্রস্তাব দিন, অর্থাৎ তাকে সহযোগিতা করার শর্ত জুড়ে দিয়ে নিজে তাকে সহযোগিতা করুন।

অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিন

কখনো কখনো আপনার সন্তান অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ এবং নিরাপদ কোনো বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জেনেও তাকে পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। মাঝে মাঝে তার ভুল সিদ্ধান্ত অনুধাবন করার সুযোগ দিন। ভুল সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট অভিজ্ঞতা তার জন্য শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবে। অথচ আপনি যদি তাকে আগে সচেতন করতেন তবে এই অভিজ্ঞতা যেমন সে অর্জন করতে পারত না, তেমনি আপনার সাথে তার সম্পর্ক আরো বৈরী হতো।

Source: Though Tco

পিতামাতাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিযোগী হয়ে ওঠা শিশুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। এভাবে শৈশবে পরিবারকে চ্যালেঞ্জ করে সিদ্ধান্ত নিতে নিতে এক সময় বাইরের উন্মুক্ত পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য শিশুরা উপযুক্ত হয়ে ওঠে। সুতরাং শিশুর এই বৈশিষ্ট্য মোটেও নেতিবাচক নয়। বরং এ সময় প্রয়োজন একজন দক্ষ অভিভাবক। সুতরাং দক্ষ অভিভাবকের মতো দায়িত্ব পালন করুন, আর আপনার সন্তানকে ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে গড়ে তুলুন।

Feature Image: Today’s Parent

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

সন্তানের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম ও মাত্রা যেভাবে নির্ধারণ করবেন

অশান্ত ও অদ্ভুত ১৩ বছর বয়স