in

সন্তানের সংবেদনশীলতা শক্তিতে রূপান্তরিত করবেন যেভাবে

শিশুরা সাদা কাগজের মতো সবকিছু নতুনভাবে লেখার জন্য পৃথিবীতে আসে না। জন্মের সময় তারা বিশেষ কিছু আচরণ এবং ব্যক্তিত্ব নিয়ে জন্মায়। তার এই ব্যক্তিত্ব গঠনে জেনেটিক, জৈবিক এবং নিউরোকেমিক্যাল বাস্তবতা কাজ করে। সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং শৈশবের অভিজ্ঞতা আপনার শিশুর মেজাজ এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে বিল্ডিং ব্লকের মতো কাজ করে।

Source: Pediatric Dental Care at Casa Linda

পারিপার্শ্বিকতা আপনার সন্তানের আবেগ কতটা তীব্রভাবে প্রভাবিত করে, আপনার সন্তান নতুন মানুষ এবং অভিজ্ঞতায় কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং তাদের আবেগ বা ক্রোধ কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তার উপর ভিত্তি করে আপনার সন্তানের মেজাজ গঠিত হয়।

সন্তানের অভিজ্ঞতা এবং সংবেদনশীলতার তীব্রতার উপর আপনার কোনো হাত থাকে না। তবে তারা প্রতিক্রিয়া দেখাতে যেসব কৌশল ব্যবহার করে তা সুগঠিত করতে এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে আপনার সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করার আছে। তাদের মধ্যে থাকা আবেগ এবং অনুভূতির তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করার শক্তি আপনার হাতে আছে।

Source: Mummy Pages

সুতরাং এই শক্তি কাজে লাগাতে হবে এবং সন্তানের সংবেদনশীলতা এবং তীব্র প্রতিক্রিয়াকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। তার জন্য আপনাকে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। সমস্যা সংকীর্ণ ক্রোধ এবং প্রতিক্রিয়া সমাধান করা এবং ভালো স্বভাব সৃষ্টি করার জন্য চারটি ধাপ আছে। নিচে এগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সংবেদনশীলতা চিহ্নিত করুন

কিছু ছেলেমেয়ে স্বাদ, গন্ধ, দর্শনীয় স্থান এবং শব্দের ব্যাপারে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে থাকে। তারা তাদের সামাজিক ও শারীরিক পরিবেশ অন্যদের চেয়ে গভীরভাবে অনুভব করে এবং যখনই কোনো বিষয় সাদৃশ্যপূর্ণ বা তাদের জন্য আনন্দদায়ক না হয় তখনই তারা এটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে অনুভব করে। আপনার সন্তান যখনই বিরক্ত এবং বিভ্রান্ত হয় তখনই সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, এবং অস্বাভাবিক আচরণ করে।

Source: Parents

যখন সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তখন তার সংবেদনশীল আচরণের কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করুন। ভালোভাবে লক্ষ করলে তার সংবেদনশীলতার বিষয়টি খুব সহজেই আপনি ধরতে পারবেন। তারপরও যদি আপনার বুঝতে অসুবিধা হয় তবে তাকে জিজ্ঞেস করুন। এই মুহূর্তে সে কী সমস্যা অনুভব করছে তা তার কাছে জানতে চান। যদি সে সঠিক শব্দ প্রয়োগ করে সমস্যার কথা বলতে না পারে তবে তার শারীরিক এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করুন। নিজের ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে সন্তানের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করুন। আশেপাশে এমন কোনো গন্ধ আছে কিনা পর্যবেক্ষণ করুন যার সাথে আপনি পরিচিত, কিন্তু সন্তান এখনও অভ্যস্ত নয়।

অবশ্য কখনো কখনো সংবেদনশীল আচরণের ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সন্তান ক্লান্ত বা ক্ষুধার্ত থাকলে সে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হতে পারে। এমন কিছু হলে সন্তানকে উৎসাহ দিন এবং প্রশংসাসূচক কিছু বলুন। এভাবে প্রাথমিকভাবে আপনার সন্তানের ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে সংবেদনশীল আচরণ করার সঠিক কারণ নির্ণয় করুন।

তাদের সমস্যা স্বীকার করুন

অনেক শিশু জেনেটিক এবং হরমোনজনিত কারণে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে থাকে এবং যে কোনো বিরুপ পরিবেশে তারা খুব দ্রুত বিরক্ত হয়ে পড়ে। ফলে বিক্ষিপ্ত আচরণ শুরু করে।

Source: Mom Junction

বিপরীতে অনেক অভিভাবকের সন্তানের এই সংবেদনশীলতা মূল্যায়ন না করার প্রবণতা আছে। শিশুকে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল আচরণ করতে দেখেও অনেক অভিভাবক, এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে, মানসিকতা পোষণ করে। সন্তানের ব্যাপারে উদাসীন আচরণ করে। এই প্রবণতা ত্যাগ করুন এবং সন্তানের যেকোনো সংবেদনশীল আচরণ গুরুত্বের সাথে দেখুন। নিজেও এটাকে সমস্যা হিসেবে মূল্যায়ন করুন।

দ্রুত সমস্যার সমাধান করুন

অনেক অভিভাবক সন্তানের সংবেদনশীল আচরণ অনুভব করার পরও সমাধানের পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করে। এ ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেক অভিভাবক মনে করে সন্তানের এমন সংবেদনশীল আচরণ প্রকৃতিগত। একটা বয়সে শিশুরা পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে এমন সংবেদনশীল আচরণ করে। আপনা থেকেই এসব ঠিক হয়ে যাবে।

Source: Verywell Family

এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সন্তানের সংবেদনশীল আচরণ চিহ্নিত করা মাত্রই তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সন্তানের দৈনন্দিন খোঁজখবর এবং পরিচর্যা করার মতোই সংবেদনশীলতা দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এ জাতীয় সমস্যা সমাধানে আপনার গৃহীত পদক্ষেপ ব্যবসায় বিনিয়োগের মতো কাজ করবে। আপনি তার প্রতি যতো মনোযোগ বিনিয়োগ করবেন ভবিষ্যতে সে ততটা সুসন্তান হয়ে উঠবে।

বিপরীতে আপনি যদি সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেন তবে সন্তানের বিরক্তিকর এবং উদাসীন আচরণ ক্রমশ স্বৈরাচারী হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে যা তার সামাজিকতা এবং ব্যাক্তিত্ববোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।

সমাধানকারী নয়, সাহায্যকারী হোন

সন্তানের সংবেদনশীলতা সন্তানকেই মোকাবেলা করতে হবে। কেননা সংবেদনশীলতার উৎস তার ব্যক্তিগত অনুভূতি, যে অনুভূতি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং শরীরবৃত্তীয় নানা প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং এক্ষেত্রে তার নিজের মধ্যে শক্তি সঞ্চার না করে আপনি যত ভালো পরামর্শ দিন না কেন শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসবে না।

Source: Fun Zone

কাজেই সন্তানের সংবেদনশীলতায় সমাধানকারী না হয়ে সাহায্যকারী হোন। তাকে উপযুক্ত পরামর্শ দিন এবং সংবেদনশীল আচরণ দূর করার কৌশল গুলো অনুশীলন করান। সংবেদনশীলতা দূর করতে তারা কখন কি পদক্ষেপ নিতে পারে সে ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ দিন এবং ধীরে ধীরে তার জড়তা দূর করে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞেস করে সমস্যার ধরন চিহ্নিত করে নিন।

কোনো কোনো সংবেদনশীলতা সম্পূর্ণ মানসিক ব্যাপার, অর্থাৎ মানসিকভাবে শক্তপোক্ত হলে এবং ভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে এসব সংবেদনশীলতা খুব সহজেই দূর করা যায়। এমন সমস্যা চিহ্নিত হলে সন্তানের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য সঠিক দিক নির্দেশনা দিন এবং মাইন্ড ম্যাপিং করে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পরামর্শ দিন।

Source: Janet Lansbury

শিশুদের সংবেদনশীলতা কোনো রোগ নয়, কেবল শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা মাত্র। সুতরাং উপযুক্ত পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনা পেলে শিশুরা ধীরে ধীরে সব সংবেদনশীলতা দূর করে স্বাভাবিক হতে পারে। সুতরাং এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।

Feature Image: Mummy Pages

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

কিশোর কিশোরীরা কেন পারিবারিক নিয়মের অবাধ্য হয়

কিশোরদের ঘরের বাইরে থাকার প্রবণতা যেভাবে মোকাবেলা করবেন