in

প্রত্যাহিক যেসব অনুশীলন শিশুকে বেশি বেশি শিখতে উদ্বুদ্ধ করে

আপনার সন্তানের যথাযথ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে আপনার ভালোবাসা, সময় এবং নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ প্রয়োজন। কেননা সন্তানের জীবনে আপনি সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আপনার মমতামাখা উপস্থিতি তার নিরাপত্তা এবং আত্মবিশ্বাস নিশ্চিত করে।

Source: Washington Post

আপনার পারিবারিক আদর্শ এবং নিয়ম-নীতি সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং সন্তানকে প্রতিদিন সময় দিন। এমন কি আপনার সবচেয়ে ব্যস্ততম দিনেও সন্তানকে একই রকম সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন। যেন তার কাছে আপনার সবগুলো দিইনি সমান মনে হয়। প্রতিদিন একই নিয়মে তার দৈনন্দিন খোঁজ খবর নিন, ভালবাসুন।

দৈনন্দিন শত ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানকে যথেষ্ট সময় দিতে এবং ভালবাসতে নিচে উল্লেখিত দিক নির্দেশনাগুলো কাজে লাগাতে পারেন।

মনোযোগী হোন

আপনার সন্তান কি বলতে চায় তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। আপনার অভিব্যক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিন তার কথা শোনার জন্য আপনি অন্য সব কাজ বন্ধ রেখে তার প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগী হয়েছেন। এমনকি কথা বলার সময় তার সাথে আই কন্টাক্ট রক্ষা করুন। তার বলা প্রতিটি কথার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করুন। তার আলোচনার বিষয়বস্তু যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করুন। এমনকি যদি সে এমন কোন চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলে যা আপনি বহুবার দেখেছেন এবং আলোচনা করেছেন, তবুও সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনুন এবং তার আলোচনাকে গুরুত্ব দিন। বিষয়টি নিয়ে আপনি কি ভাবছেন তা মুখ্য বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হলো সে কি বলতে চায়।

Source: The New Times | Rwanda

এমনকি আপনি যদি তাৎক্ষণিক ব্যস্ততার কারণে কোনভাবেই তার প্রতি মনোযোগী হওয়ার সুযোগ না পান তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে তার সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য প্রতিশ্রুতি দিন, যে সময় আপনি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনতে পারবেন।

আদর করুন

প্রতিদিন সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার সাথে সাথে তাকে আদর করুন। বুকে জড়িয়ে ধরা এবং গালে চুমু দেওয়ার মতো শারীরিক সংযোগ পিতামাতার সাথে সন্তানের সম্পর্ক গভীর করে।

Source: Ship Shop

একটি বেসরকারি অলাভজনক গবেষণা সংস্থা চাইল্ড ট্রেন্ডস গবেষণা করে দেখেছে পিতামাতা এবং সন্তানের মধ্যে গভীর যোগাযোগ তাদের মধ্যে স্নেহের এবং সম্মানের সম্পর্ক বৃদ্ধি করে।

মানসম্পন্ন উপহার দিন

যখন সন্তানকে পুরস্কৃত করার মতো বিষয় সামনে আসে তখন পুরস্কারের সংখ্যার চেয়ে মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিন, অর্থাৎ তাকে অধিক উপহার দেওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় কিছু উপহার দিন। আপনার উপহারের মান বলে দিবে আপনি তাকে নিয়ে কতটা গর্বিত। আবার সন্তানের সব কাজের জন্যই পুরস্কৃত করতে হবে এমন নয়। যখন সত্যিই সে কৃতিত্বপূর্ণ কিছু করবে অথবা কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হবে তখনই তাকে পুরস্কৃত করুন। আপনার এই পুরস্কার তার আত্মবিশ্বাস এবং কর্মস্পৃহা বাড়িয়ে দিবে বহুগুণ।

সন্তানের কাছে সাহায্য চান

সন্তানকে দৈনন্দিন নানা কাজে শুধু সহযোগিতা করা নয়, কখনো কখনো তার কাছেও সহযোগিতা চান। এমনকি ইচ্ছা করেই তাকে আপনাকে কিছু শেখানোর সুযোগ দিন। যেমন খাবার টেবিল প্রস্তুত করতে বা বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখতে তার সহযোগিতা নিন।

Source: Concierge Home Services

সন্তানকে বলুন তার সহযোগিতা ছাড়া আপনার বাড়ির সবকিছু এতো সুন্দর হতো না। এমনকি তার কাছ থেকে অভিনব বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার শিখে নিন এবং তাকে ধন্যবাদ জানান।

সন্তানকে নিয়ে একা ঘুরতে বের হোন

সাধারণত বলা হয়ে থাকে, সন্তানকে পরিবারের সবার সাথে নিয়ে ঘুরতে বের হতে, কিন্তু কখনো কখনো একা সন্তানকে সাথে নিয়ে ঘুরতে বের হোন। এতে যেমন দুজনের মধ্যে দীর্ঘক্ষন কথোপকথন হবে তেমনি নানান অজানা বিষয় পরস্পরের মধ্যে শেয়ার করার সুযোগ হবে, যা সন্তানের সাথে আপনার সম্পর্ক অনেক বেশি দৃড় করবে। ফলে ভবিষ্যতে অনেক গোপন ও জটিল সমস্যার জন্য সে অকপটে আপনার কাছে সাহায্য চাইতে পারবে।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে খোশগল্প

ঘুমাতে যাওয়ার আগে সন্তানের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করুন। পছন্দের কোনো বই তাকে সাথে নিয়ে পড়তে পারেন বা তাকে সাথে নিয়ে পছন্দের কোনো টিভি অনুষ্ঠান দেখতে পারেন।

Source: Child Development Institute

এমনকি নিজের জীবনের মজার মজার স্মৃতি গল্পের ছলে তার সাথে শেয়ার করতে পারেন। এতে সারাদিনের ক্লান্তি যেমন দূর হবে তেমনি একটি চমৎকার ঘুমের জন্য মন ও শরীর প্রস্তুত হবে।

পারিবারিক খাবার আয়োজন

দিনের প্রতিটি পারিবারিক খাবার আয়োজন উৎসবের সাথে উদযাপন করুন। সবাইকে সাথে নিয়ে খাবার ভাগ করে খান। গবেষণায় উঠে এসেছে পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে খাবার খাওয়ার বিশেষ শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা আছে। এতে শারীরিকভাবে খাবারের অরুচি যেমন দূর হয় তেমনি পরিবারের সবার মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া সবাইকে একসাথে নিয়ে চমৎকার সময় কাটানোর উত্তম স্থান পারিবারিক খাবার টেবিল।

Source: Strong 4 Life

এই খাবার আয়োজনকে উপভোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ করতে দৈনন্দিন খাবারের নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন এবং প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খেতে বসুন। তাতে খাবারের প্রতি সন্তানদের অধিক আগ্রহ সৃষ্টি হবে। তাছাড়া সন্তানকে নিয়মিত একই সময়ে খাবার টেবিলে ডাকলে তারা নিয়ম-নীতির ব্যাপারে সচেতন হবে এবং নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করবে।

দৈনন্দিন জীবনের সবকিছু অধিক আগ্রহ এবং উচ্ছ্বাস নিয়ে সম্পন্ন করুন এবং সকল পারিবারিক আয়োজনে শিশুকে সম্পৃক্ত করুন। দৈনন্দিন চর্চা আপনার শিশুকে পরিবারের প্রতি আরো আন্তরিক করে তুলবে। যা তাকে অধিক মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Feature Image: Ship Shop

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

সন্তানকে স্বাবলম্বী হতে শেখান

কিশোর কিশোরীরা কেন পারিবারিক নিয়মের অবাধ্য হয়