in

কিশোর কিশোরীরা কেন পারিবারিক নিয়মের অবাধ্য হয়

শিশুকালে ছেলেমেয়েরা পিতামাতার কথা মেনে চলে। পারিবারিক নিয়ম অনুসরণ করার ব্যাপারে আগ্রহী থাকে। এমনকি যথাযথভাবে করতে না পারলেও পারিবারিক কাজে শামিল হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শৈশব ছেড়ে যখনই ছেলেমেয়েরা কৈশোরে পদার্পণ করে তখনই তাদের মধ্যে আচার আচরণের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অসংখ্য ছেলেমেয়ে হঠাৎ করেই পিতামাতার অবাধ্য হয়ে যায়। পারিবারিক নিয়মনীতি আর মানতে চায় না। নিজের মতো জীবন চালাতে চায়, সকল সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

Source: Life With a Side of the Unexpected

লক্ষ্য করলে দেখা যায় সাধারণত ১৩/১৪ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরা এমন আচরণ করে। যদিও ইতিমধ্যে তারা পারিবারিক নিয়ম নীতির সাথে অভ্যস্ত হয়ে যায়। যেমন রাতে সবার সাথে খাবার টেবিলে যাওয়া, সময় মতো ঘুমাতে যাওয়া ইত্যাদি। তবুও তারা বিপরীত আচরণ করে। কিন্তু কেন? এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কি?

আসলে এই বয়সটা ছেলেমেয়েদের শিশু থেকে যুবক হওয়ার বয়স। বয়সন্ধিকালীন এই সময়টা খুব দ্রুত আসে এবং খুব দ্রুত কিশোর কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটায়। এসময়ের বিক্ষিপ্ত আচারণ ছেলে মেয়েদের চারিত্রিক স্খলন নয়, বরং বিশেষ কিছু পরিবর্তন নির্দেশ করে। তাই এই বয়সে তাদের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়।

Source: Parenting Ideas

অভিভাবক হিসেবে শুধু স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা বা সুন্দর পারিবারিক আবহ সৃষ্টি করা নয়, আরও বিশেষভাবে ছেলে মেয়েদের উপর নজর রাখার প্রয়োজন হয়। বিক্ষিপ্ত আচরণ করলেও তারা যেন পরিবারে, স্কুলে এবং বাইরে নিরাপদ থাকে সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়। কেননা এ সময় তাদের যতটা শারীরিক পরিপক্কতা আসে ততটা মানসিক পরিপক্কতা আসে না। তাই এ সময় ভুল করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সুতরাং তাদের বিক্ষিপ্ত এবং বৈরী আচরণে বিরক্ত না হয়ে বরং বিশেষভাবে যত্নশীল হতে হবে।

আজকের নিবন্ধে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

নির্বাচন করা এবং সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে দূরে থাকুন

এই বয়সে এসে ছেলেমেয়েরা নিজেদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবতে শুরু করে এবং সবকিছু থেকে আলাদা হতে চায়। আসলে এর অর্থ তারা আর শিশু থাকে না। তাই শৈশবের নিয়মনীতি এবং অভ্যস্ততা কাটিয়ে উঠতে চায়। আবার তারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে সম্পূর্ণ পরিপক্ক হয়ে ওঠে না, তাই সঠিক বিষয় নির্বাচন এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই কারণে মনে হয় তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় এবং বিক্ষিপ্ত আচরণ করে।

Source: Triond

এই বয়সে তারা পারিবারিক পরিবেশের বাইরে কাজ করতে চায় এবং এমন কিছু বিষয় বাদ দিতে চায় যার সাথে তারা শৈশবে খুব বেশি পরিচিত ছিল। এ সময় আপনাকে কোনো বিষয় নির্বাচন করে দেওয়া বা সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। আপনাকে শুধু একজন দক্ষ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে হবে। এমনকি তারা ভাই বোন এবং পরিবারের সদস্যদের অসম্মান করলেও সুকৌশলে বিষয়গুলো সমন্বয় করতে হবে।

তবে পারিবারিক পরিবেশ ভালো থাকলে তারা কখনই সাহস করে পারিবারিক সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বা অসম্মানজনক কিছু করবে না।

সহযোগিতার উপায়

কিশোর কিশোরীদের এই প্রবণতা হঠাৎ করে যায় না। তাই তাদের সহযোগিতা করুন ভিন্নভাবে। কখনো কখনো তার জীবনে আপনার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করার সুযোগ সৃষ্টি করুন। যেমন পারিবারিক বিভিন্ন কাজে তাকে সহযোগিতা করা কমিয়ে দিন। যেমন নিজের খাবার প্রস্তুত করা, কাপড় পরিষ্কার করা অথবা নিজের ঘর গুছিয়ে রাখার মতো কাজে তাকে সহযোগিতা করা বন্ধ করুন।

Source: James Mason Centers for Recovery

এমন কাজে সহযোগিতা করা বন্ধ করুন যা করতে গিয়ে সে কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হবে না। কিন্তু অন্যের সহযোগিতা কতটা প্রয়োজনীয় তা উপলব্ধি করতে পারবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আপনি সন্তানকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হবেন যে এখনো নিজে সব কিছু করার জন্য সে প্রস্তুত না। তাকে আরো শক্তিশালী এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।

কাজে ব্যবহার করুন

বয়সন্ধিকালে কোনো কোনো ছেলেমেয়ে নিজেদের বয়স্ক ভাবতে শুরু করে এবং পারিবারিক কাজে অনেক বেশি তৎপর হয়ে পড়ে। তাই অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আপনার বিরুদ্ধাচরণ করে। এসব ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েকে প্রতিদ্বন্দ্বি বানানোর পরিবর্তে তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করুন।

Source: Parent Tooikit

তাকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে দিন। যেন সে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পায়। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেলে সে আর বড়দের বিরুদ্ধাচরণ করবে না, বরং সহযোগী হয়ে উঠবে।

পিতামাতার পরীক্ষা

পারিবারিক জীবন প্রতিনিয়ত পিতামাতা হিসেবে আপনার পরীক্ষা নিবে। আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং নিজের পছন্দ না হলেও অনেক কিছু মেনে নিতে হবে। পরিবার এবং সন্তানেরা প্রতিনিয়ত আপনার সামনে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হাজির করবে। আপনাকে দক্ষতার সাথে এইসব মোকাবেলা করতে হবে। প্রতিনিয়ত নিজের ধারণার বাইরে বের হয়ে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Source: Factinate

তবে পিতামাতা হিসেবে যত দক্ষ এবং খোলা মনের হোন না কেন, নিশ্চয়ই আপনি সন্তানদের দীর্ঘক্ষন বাইরে অরক্ষিত অবস্থায় থাকতে দিবেন না এবং সব সময় তাদের চোখে চোখে রাখতে চাইবেন। কিন্তু বয়সন্ধিকালে আপনার এই প্রবণতা ধ্বংসাত্মক হতে পারে। তাই নিজেকে শান্ত রাখুন এবং প্রতি মুহূর্তে কৌশলে সবকিছু আগলে রাখুন।

বয়সন্ধিকালে আপনার সন্তানকে যতটা দক্ষতার সাথে আগলে রাখতে পারবেন ভবিষ্যৎ জীবনে সে ততটা সফল হবে। আর বয়সন্ধিকালে যদি আপনার সন্তান বখে যায় তবে ভবিষ্যতে তাকে সংশোধন করা অনেক কঠিন হবে। সুতরাং তাদের যথাযথ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বয়সন্ধিকাল নিরাপদ করে তুলুন।

Feature Image: Parenting Ideas

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

প্রত্যাহিক যেসব অনুশীলন শিশুকে বেশি বেশি শিখতে উদ্বুদ্ধ করে

সন্তানের সংবেদনশীলতা শক্তিতে রূপান্তরিত করবেন যেভাবে