in

কিশোরদের ঘরের বাইরে থাকার প্রবণতা যেভাবে মোকাবেলা করবেন

পিতামাতা হিসেবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় কোনটি? নিঃসন্দেহে বলা যায় সন্তানের কৈশোর। বয়সন্ধির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার মুহূর্তে ছেলেমেয়েরা ঘরের বাইরে থাকা এবং সময় কাটানোর ব্যাপারে বেশি উৎসাহী হয়ে থাকে। কেননা আর কিছুদিনের মধ্যেই সে শারীরিকভাবে পরিপক্ক হয়ে উঠবে এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করবে। সুতরাং এ সময় কিশোর কিশোরীদের ঘরের বাইরে সময় কাটানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়াই স্বাভাবিক।

Source: Guide Posts

সুতরাং আপনি যদি পনেরো ষোল বছর বয়সী কিশোর কিশোরীর পিতামাতা হয়ে থাকেন তবে নিশ্চয়ই আপনাকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কেননা এই বয়সী ছেলেমেয়ের বাইরে রাত কাটানোর প্রবণতা আপনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারবেন না। অথচ সে এমন সময় বন্ধুদের সাথে রাতে কোনো পার্টি বা পিকনিক করার আবদার করে বসবে। এমন কি সে আপনার কোনো নিষেধ বা বারণ শুনবে না, তার নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকবে।

সন্তানের এই প্রবণতা নিয়ে অনেক বিষয় আপনার কাছে যৌক্তিক বলে মনে হবে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা আপনার পক্ষে অনেক কঠিন হয়ে উঠবে। এ অবস্থায় আপনার করণীয় কী? এমন পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করার জন্য আজকের নিবন্ধে কিছু কৌশল গভীরভাবে আলোচনা করা হলো।

শান্ত এবং আত্মবিশ্বাসী থাকুন

সন্তান এমন আচরণ করলে যতটা সম্ভব শান্ত এবং আত্মবিশ্বাসী থাকুন। এমনকি আপনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও নিজের আত্মবিশ্বাসী মনোভাব প্রকাশ করুন। কেননা আপনি শত চেষ্টা করেও সন্তানকে এই প্রবণতার বাইরে আনতে পারবেন না।

Source: Verywell Mind

কেননা সুদূর ভবিষ্যতের জন্য তার এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। সুতরাং এমন পরিস্থিতিতে নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন।

বিতর্কে জড়াবেন না

কেননা কিশোর কিশোরীরা এসব ক্ষেত্রে আবেগ এবং ব্যক্তিগত যুক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। তাই বিতর্কে না গিয়ে বরং তাকে বলুন, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে পরে কোনো এক সময় কথা বলব, এই মুহূর্তে নয়, অথবা আমাকে একটু সময় দাও ইত্যাদি।

Source: New Kids Center

সন্তানের সিদ্ধান্ত ভুল সাব্যস্ত করে দ্রুত তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার জন্য বিতর্কে জড়াবেন না। কেননা বিতর্ক কোনো সমাধানের উপায় নয়। এমনকি তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পক্ষে আপনার কাছে যত শক্তিশালী যুক্তি থাক না কেন এই বিতর্কে তা মূল্যহীন।

সন্তানের শরীরবৃত্তীয় সিদ্ধান্তের সাথে মানসিক যুদ্ধ

সব অভিভাবকের এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ যে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের মস্তিষ্ক এবং মনোজগৎ গঠিত হয়, তাই তারা হরহামেশা ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তন তাদের শরীর এবং মনের উপর অতিমাত্রায় প্রভাব বিস্তার করে। তাই তারা সব সময় শরীরের চাহিদার সাথে মনের সিদ্ধান্ত, আবার মনের চাহিদার সাথে শরীরের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধান্বিত থাকে।

Source: Her Gamut

এমনকি পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের সাথে তারা একমত পোষণ করতে পারে না। কেননা বিচক্ষণতার সাথে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা তখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় না। অভিভাবক হিসেবে এটা বুঝতে না পারলে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে সন্তানকে রক্ষা করা আপনার পক্ষে কঠিন হবে।

কম শব্দ ব্যয় করুন

কিশোর কিশোরীরা কোনো বিষয়ে যখন আপনাকে চ্যালেঞ্জ করে তখন মনে হয় তাদের প্রতি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাক্য বিনিময় করা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। কিন্তু এই প্রবণতা কোনো সমাধান আনে না, বরং আলাপচারিতা ঝগড়ার দিকে মোড় নেয়। সুতরাং টিনএজদের সাথে কথা বলার সময় আপনাকে জানতে হবে, কখন কথা বলতে হবে আর কখন চুপ থাকতে হবে।

সহযোগিতার উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করুন

সরাসরি আপনার সিদ্ধান্ত কিশোর কিশোরীরা মানতে চাইবে না। তাই তার সহযোগী হওয়ার চেষ্টা করুন, এবং সহযোগী হওয়ার উপযুক্ত কারণ তার সামনে উপস্থাপন করুন। বাড়ির অন্যান্য কাজ, তার খাবার প্রস্তুত করা এবং পোশাক পরিষ্কার করার মতো বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসুন। যা থেকে সে উপলব্ধি করতে পারবে আপনার সহযোগিতার প্রয়োজন।

কিশোরদের উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে সহযোগিতা করতে চাইলে তারা তা গ্রহণ করে। সুতরাং এই প্রবণতা কাজে লাগান এবং পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন।

সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি গ্রহণ করুন

চ্যালেঞ্জিং কিশোর কিশোরীদের মোকাবেলা করতে সবকিছুতে তাদের বিরুদ্ধাচারণ করা বন্ধ করুন। দৈনন্দিন জীবনে আপনার এবং আপনার পরিবারের কিছু নিয়মনীতি আছে। কিন্তু কিশোর কিশোরীরা হঠাৎ করে এই নিয়মনীতির বিরুদ্ধাচারণ করে। এক্ষেত্রে সবকিছুতে না বলার প্রবণতা ত্যাগ করে সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি গ্রহণ করুন।

Source: almakan

তার চাহিদার মূল্যায়ন করে সমাধানের উপায় নির্ধারণ করুন। যেমন পারিবারিক নিয়মে রাত ১১টার মধ্যে তাকে বাড়ি ফিরতে বাধ্য করার পরিবর্তে রাত ১১টার মধ্যে বাড়ি ফেরার কিছু ভালো দিক নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুন। কখনো যদি সে বাড়ি ফিরতে রাত ১১টা পার করে ফেলে তবে বিরক্ত না হয়ে তার চাহিদা বা সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে সবকিছু মেনে নিন।

সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করুন

কৈশোরে শিশুরা বখে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ পিতামাতার সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরী না হওয়া। আপনার শিশু ক্রমশ বড় হবে। তার মধ্যে নানা শারীরিক ও মানসিক চাহিদা সৃষ্টি হবে, এটাই স্বাভাবিক। এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে শিশুর বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। বয়স অনুযায়ী তার ভালোলাগা মন্দলাগা মূল্যায়ন করে বন্ধুর মতো আচরণ করুন। মনে রাখবেন সন্তানের সাথে আপনার সম্পর্ক যত গভীর হবে তার ভুল করার সম্ভাবনা তত কমবে।

Source: James Mason Centers for Recovery

সুতরাং কিশোর-কিশোরীদের মনোদৈহিক পরিবর্তন মেনে নিয়ে তার আচরণগত পরিবর্তন কে আলিঙ্গন করুন। নতুন রূপে সন্তানকে দেখে বিরক্ত হওয়ার পরিবর্তে খুশি হোন। নতুন পৃথিবীতে তাকে স্বাধীন মানুষ হিসেবে স্বাগত জানান।

Feature Image: New Kids Center

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

সন্তানের সংবেদনশীলতা শক্তিতে রূপান্তরিত করবেন যেভাবে

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শিশুর রাগান্বিত মনোভাব প্রতিরোধ করবেন যেভাবে